গরিবদের জন্য সস্তার হোটেল খুললেন অরিজিৎ সিং, মাত্র ৩০ টাকাতে মিলবে ভরপেট খাবার

বর্তমানে গানের জগতের সেনসেশন অরিজিৎ সিং (Arijit Singh)। তার জীবনের খুটিনাটি তথ্য জানার জন্য মুখিয়ে থাকেন তার অনুরাগীরা। আর হবে নাই বা কেন অরিজিৎ সিং মানুষটাই এমন। 1987 সালের 25 শে এপ্রিল মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন অরিজিৎ সিং। তিনি গত 25 শে এপ্রিল 35 বছরে পা দিলেন। 2014 সালে নিজের ছোটোবেলার বান্ধবী কোয়েল রায়কে বিয়ে করেন তিনি। বর্তমানে তাদের এক ছেলে আছে।

2005 সালে “ফেম গুরুকুল” নামক একটি সিংগিং রিয়ালিটি শো তে প্রতিযোগী হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। যদিও তিনি জিততে পারেননি। এরপর 2009 সালে “মার্ডার টু” সিনেমায় “ফির মহব্বত” গানটির মাধ্যমে বলিউডে ডেবিউ করেন তিনি। এই সিনেমাটি রিলিজ হয় দুই বছর পর 2011 সালে। হিন্দি, বাংলা সহ অন্যান্য ভাষা মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত 500 এর বেশি গান গেয়েছেন তিনি। এক ইন্টারভিউতে অরিজিৎ সিং জানিয়েছিলেন 300 র বেশি গান তার রেকর্ডিং করা আছে, যা এখনও রিলিজ হতে বাকি।

বর্তমানে অরিজিৎ সিং এক একটি লাইভ প্রোগ্রাম করার জন্য এক কোটি থেকে দেড় কোটি টাকা নিয়ে থাকেন। আগে অবশ্য 30 লাখ থেকে 50 লাখ টাকা নিতেন যা বর্তমানে বাড়িয়ে দিয়েছেন। এছাড়াও এক একটি গান রেকর্ড করার জন্য 18 লাখ থেকে 20 লাখ টাকা নিয়ে থাকেন। বর্তমান সময়ে ভারতের ব্যস্ততম গায়কদের মধ্যে অন্যতম অরিজিৎ সিং। কিন্তু আজও কাজ না থাকলে জিয়াগঞ্জে নিজের দেশের বাড়িতে থাকতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন তিনি।

সম্প্রতি মার্কিন বিদেশ সচিব এন্টনি ব্লিঙ্কেন তার পছন্দসই গানের লিস্ট প্রকাশ করেছেন। যেখানে বিখ্যাত গায়ক অরিজিৎ সিং এর গাওয়া গান “একা একেলা মন” গানটিও রয়েছে। এই গানটি “চিরদিনই তুমি যে আমার 2” এর একটি জনপ্রিয় গান। তার গাওয়া গান দেশের সীমা পেরিয়ে একজন সংগীত প্রেমীর মনকে ছুঁয়েছে তা জেনে অরিজিৎ সিং এর ভক্তদের খুশি গগনচুম্বী।

আজ এত সফলতা পেয়েও নিজের শিকড় কে ভোলেননি বিখ্যাত গায়ক অরিজিত সিং। এবার নিজের শহর জিয়াগঞ্জ ও তার আশেপাশের এলাকার ছেলে মেয়েদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে অরিজিত সিং চালু করতে চলেছেন অবৈতনিক ইংরেজি প্রশিক্ষণ ক্লাস। অরিজিৎ সিং জিয়াগঞ্জের একটি নার্সিং স্কুলে দুপুর দেড়টা নাগাদ হঠাৎই যান। সেখানে গিয়ে সমস্ত রকম কথাবার্তা বলে আসেন তিনি। আপাতত 8-9 টি ঘর ভাড়া নিয়ে ওই নার্সিং স্কুলে শুরু হবে ইংরেজির প্রশিক্ষণ ক্লাস।

সম্প্রতি তিনি জিয়াগঞ্জের আরেকটি দৃষ্টান্ত রেখেছেন। সেখানে একটি ভাতের হোটেল খুলে ফেলেছেন তিনি। যদিও তাঁর বাবা “হেঁসেল” (Hensel) নামক এই রেস্টুরেন্টটি চালাতেন। এবার সেই দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিলেন তিনি। যদিও এটি কোনো ফাইভ স্টার (Five star) হোটেল নয়। সাধারণ মানুষের জন্যই খোলা হয়েছে এটি। মাত্র 30 টাকা থেকে শুরু হচ্ছে থালি।

Leave a Comment